কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি? লক্ষণ, খাবার ও চিকিৎসা – পূর্ণাঙ্গ গাইড

হঠাৎ কোমরে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন? এটি কিডনি স্টোনের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছি পাথরের লক্ষণ, ঘরোয়া প্রতিকার, কী খাবেন, কী বর্জন করবেন এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অপারেশন ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব। বিস্তারিত জানতে লেখাটি পড়ুন।

Table of Contents

সূচিপত্রঃকিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি? লক্ষণ, খাবার ও চিকিৎসা

  • কিডনিতে পাথর কেন হয় বা এর মূল কারণগুলো কী?
  • কিডনি পাথরের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে নিন
  • কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি: তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: কিডনিতে পাথর হলে কি খাওয়া যাবে না?
  • কিডনি পাথর বের করার উপায় ও আধুনিক চিকিৎসা
  • কিডনির পাথর গলানোর ঘরোয়া উপায় কি সত্যিই কাজ করে?
  • কখন দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
  • ভবিষ্যতে পাথর হওয়া রোধে জীবনযাত্রার পরিবর্তন
  • সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

ভূমিকাঃ কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি? লক্ষণ, খাবার ও চিকিৎসা

আমাদের দেশে ইদানীং কিডনিতে পাথরের সমস্যা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন শুধু বয়স্কদের এই সমস্যা হতো, কিন্তু এখন কমবয়সীদের মধ্যেও এটি বেশ সাধারণ। হঠাৎ করে কোমরের কোনো এক পাশে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। আসলে ভয়ের কিছু নেই, যদি আপনি সঠিক সময়ে বুঝতে পারেন যে সমস্যাটা কোথায়। বেশির ভাগ মানুষই ব্যথার সঠিক কারণ না জেনেই পেইনকিলার খেয়ে ব্যথা ধামাচাপা দিয়ে রাখেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সিনকারা সিরাপ এর কাজ কি? ডোজ, উপকারিতা, জেনে নিন

সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই সমস্যা মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি, এর লক্ষণগুলো কেমন হয় এবং ঘরোয়া বা ডাক্তারি উপায়ে এর সমাধান কী। আপনি যদি বা আপনার পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে এই লেখাটি আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে।

এখানে আমরা খুব সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। লেখাটি পড়ার পর আপনি বুঝতে পারবেন কখন আপনার ঘরোয়া নিয়ম মানা উচিত আর কখন দেরি না করে ডাক্তারের কাছে ছোটা উচিত। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।

কিডনিতে পাথর কেন হয় বা এর মূল কারণগুলো কী?

পাথর কেন হয়, সেটা জানলে প্রতিকার করা সহজ হয়। সহজ কথায় বললে, আমাদের প্রস্রাবে যখন খনিজ লবণের (যেমন ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড) পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তরল বা পানির পরিমাণ কমে যায়, তখন এগুলো জমাট বেঁধে পাথরের সৃষ্টি করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় শরীর থেকে ঘাম বেশি ঝরে, তাই পানির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

মূলত যারা পানি খুব কম পান করেন, তাদের এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, প্রোটিন বা মাংসজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং পরিবারের কারো আগে এই রোগ থাকার ইতিহাস থাকলে আপনারও ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেকে আবার প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন, এটিও একটি বাজে অভ্যাস যা কিডনিতে পাথর জমার সুযোগ করে দেয়। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট (যেমন অতিরিক্ত ভিটামিন সি বা ক্যালসিয়াম বড়ি) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খেলে পাথরের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কারণগুলো এড়িয়ে চলাটাই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।

কিডনি পাথরের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে নিন

কিডনিতে পাথর হলে শুরুতেই যে খুব ব্যথা হবে, এমন কোনো কথা নেই। পাথর যদি খুব ছোট হয়, তবে অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। এটি অজান্তেই প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু পাথর যখন আকারে বড় হয় বা মূত্রনালীতে আটকে যায়, তখনই শরীর জানান দিতে শুরু করে।

সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পিঠের নিচের দিকে, পাঁজরের নিচে বা কোমরের এক পাশে তীব্র ব্যথা। এই ব্যথাটা অনেক সময় ঢেউয়ের মতো আসে এবং যায়। ব্যথাটা তলপেট থেকে কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সাথে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাবের রঙ ঘোলাটে, গোলাপি বা লালচে (রক্তযুক্ত) হতে পারে।

অনেক সময় ব্যথার তীব্রতায় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। যদি ব্যথার সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, তবে বুঝতে হবে ইনফেকশন হয়েছে। মহিলাদের কিডনিতে পাথরের লক্ষণ আর পুরুষদের লক্ষণে খুব একটা তফাৎ নেই, তবে ব্যথার তীব্রতা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে।

কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি: তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

পাথর ধরা পড়লে বা লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি এই প্রশ্নটি সবার আগে মাথায় আসে। প্রথম কাজ হলো পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করতে হবে। বেশি পানি পান করলে প্রস্রাবের বেগ বাড়বে এবং ছোট পাথর (৫ মি.মি.-এর কম) থাকলে তা পানির তোড়ে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকে।

দ্বিতীয়ত, ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ভুলেও নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া কোনো পেইনকিলার কিনে খাবেন না, এতে কিডনির উল্টো ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রস্রাবের প্রবাহ বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

এই সময়টাতে বিশ্রাম নেওয়া খুব জরুরি। দৌড়ঝাঁপ বা ভারী কাজ থেকে বিরত থাকুন। খাবারের লবণের পরিমাণ একদম কমিয়ে দিন। যদি দেখেন ব্যথা কমছে না বা জ্বর আসছে, তবে কালক্ষেপণ না করে ইউরোলজিস্ট বা কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: কিডনিতে পাথর হলে কি খাওয়া যাবে না?

কিডনির পাথর চিকিৎসায় ওষুধের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস। কিছু খাবার আছে যা পাথরের আকার বাড়াতে সাহায্য করে, এগুলোকে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যারা ক্যালসিয়াম-অক্সালেট জাতীয় পাথরে আক্রান্ত, তাদের সতর্ক থাকা জরুরি।

কিডনিতে পাথর হলে কি খাওয়া যাবে না তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • অতিরিক্ত লবণ: কাঁচা লবণ বা পাতে লবণ খাওয়া একদম বন্ধ করতে হবে। চিপস, চানাচুর বা প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।
  • অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার: পালং শাক, পুঁই শাক, বিট, এবং টমেটোর বীজ ফেলে খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত চা বা কফি খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন।
  • রেড মিট: গরু বা খাসির মাংস, কলিজা এগুলোতে প্রচুর ইউরিক অ্যাসিড থাকে যা পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। প্রাণিজ প্রোটিন কমিয়ে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বা ডাল খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমিত।
  • কোমল পানীয়: কার্বনেটেড বেভারেজ বা সোডা জাতীয় পানীয় কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এর বদলে প্রচুর লেবুর শরবত, ডাবের পানি এবং আঁশযুক্ত খাবার খেতে পারেন। লেবুতে থাকা সাইট্রেট পাথর ভাঙতে বা নতুন পাথর তৈরিতে বাধা দেয়।

কিডনি পাথর বের করার উপায় ও আধুনিক চিকিৎসা

পাথর যদি ছোট হয় (সাধারণত ৪-৫ মিলিমিটারের কম), তবে ডাক্তাররা সাধারণত ঔষধ এবং বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন। একে বলা হয় ‘মেডিকেল এক্সপালসিভ থেরাপি’। এতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাথর প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পাথর যদি বড় হয় বা এমন জায়গায় আটকে থাকে যে বের হচ্ছে না, তখন আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশে এখন কিডনি পাথর বের করার উপায় হিসেবে বেশ কিছু আধুনিক পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যেমন:

  • ESWL (শক ওয়েভ): এটি কোনো অপারেশন নয়। শরীরের বাইরে থেকে শক ওয়েভ দিয়ে পাথর গুঁড়ো করে দেওয়া হয়, যা পরে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়।
  • URS/RIRS: মূত্রনালি দিয়ে চিকন যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে লেজারের মাধ্যমে পাথর ভেঙে বের করা হয়। এতে কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয় না।
  • PCNL: পিঠের দিকে খুব ছোট একটি ছিদ্র করে বড় পাথর বের করা হয়। এগুলো সবই এখন বাংলাদেশে খুব সফলভাবে এবং তুলনামূলক কম খরচে করা হচ্ছে। ওপেন সার্জারি বা পেট কেটে অপারেশন এখন খুব একটা দরকার হয় না।

কিডনির পাথর গলানোর ঘরোয়া উপায় কি সত্যিই কাজ করে?

অনেকেই জানতে চান কিডনির পাথর গলানোর ঘরোয়া উপায় বা টোটকা সম্পর্কে। সত্যি বলতে, বৈজ্ঞানিকভাবে পাথর পুরোপুরি “গলিয়ে” ফেলার মতো কোনো জাদুকরী খাবার নেই। তবে কিছু ঘরোয়া উপাদান পাথর বের হতে সাহায্য করতে পারে বা নতুন পাথর হওয়া রোধ করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ  দাদ হলে কি খাওয়া নিষেধ? কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা, ঘরোয়া সমাধান ও সম্পূর্ণ গাইড

সবচেয়ে কার্যকরী হলো লেবুর রস ও অলিভ অয়েল এর মিশ্রণ। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম পাথর ভাঙতে সাহায্য করে। আপেল সাইডার ভিনেগারও এক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়। তুলসী পাতার রস বা ডালিম বা আনারের রস কিডনির কার্যকারিতা বাড়ায় এবং টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো কেবল সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

পাথর যদি বড় হয়, তবে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে বিপদ বাড়তে পারে। এগুলোকে সাপোর্টিং ট্রিটমেন্ট হিসেবে নিন, মূল চিকিৎসা হিসেবে নয়।

কখন দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

সব সময় ঘরোয়া চিকিৎসায় কাজ হয় না। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে।

নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যান:

  • ব্যথা এতটাই তীব্র যে আপনি স্থির হয়ে বসতে বা দাঁড়াতে পারছেন না।
  • ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব বা অনবরত বমি হচ্ছে।
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা যাচ্ছে।
  • প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গেছে বা ফোঁটা ফোঁটা হচ্ছে।
  • তীব্র ব্যথার সাথে জ্বর এবং কাঁপুনি (এটি কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ)।

পাথর হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ইনজেকশন বা অ্যান্টিবায়োটিক নেবেন না। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ভবিষ্যতে পাথর হওয়া রোধে জীবনযাত্রার পরিবর্তন

একবার পাথর বের হয়ে গেলে বা অপারেশন করলে যে আর হবে না, এই ধারণা ভুল। যাদের একবার পাথর হয়, তাদের ৫-১০ বছরের মধ্যে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০%। তাই জীবনযাত্রায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা জরুরি।

প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার প্রস্রাব যাতে হয়, সেই পরিমাণ পানি পান করুন। গরমের দিনে বা ঘাম বেশি হলে পানির পরিমাণ বাড়ান। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ স্থূলতা কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত সুগার বা মিষ্টি জাতীয় খাবার কমিয়ে দিন। সবচেয়ে বড় কথা, বছরে অন্তত একবার রুটিন চেকআপ বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখুন কিডনির অবস্থা কেমন আছে।

উপসংহারঃ কিডনিতে পাথর হলে করণীয়

কিডনিতে পাথরের সমস্যাটি শুনতে ভয়ের মনে হলেও, সঠিক সচেতনতা থাকলে এটি সহজেই মোকাবিলা করা যায়। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে আপনাকে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া। মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনা এই তিনটি ছোট পরিবর্তন আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

আরো পড়ুনঃ Timex 25 mg এর কাজ কি ব্যবহার, ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

আপনি যদি উপরের লক্ষণগুলো নিজের মধ্যে দেখতে পান, তবে আতঙ্কিত না হয়ে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। আধুনিক চিকিৎসায় এখন খুব সহজেই এবং ব্যথা ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সুস্থ থাকতে নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন। আপনার সুস্বাস্থ্যই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই বিষয়ে আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: বিয়ার বা অ্যালকোহল খেলে কি কিডনির পাথর বের হয়?

উত্তর: এটি একটি খুব প্রচলিত ভুল ধারণা। বিয়ার খেলে প্রস্রাবের বেগ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু এটি শরীরকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য করে দেয়, যা উল্টো পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকরা কখনোই পাথর বের করার জন্য অ্যালকোহল পানের পরামর্শ দেন না। এর চেয়ে প্রচুর পানি ও লেবুর শরবত পান করা অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকরী।

প্রশ্ন ২: কিডনি পাথর অপারেশনের খরচ বাংলাদেশে কেমন?

উত্তর:  এটি নির্ভর করে পাথরের আকার, অবস্থান এবং কোন পদ্ধতিতে অপারেশন করা হবে তার ওপর। সরকারি হাসপাতালে খরচ খুবই কম। বেসরকারি হাসপাতালে ESWL বা লেজার চিকিৎসার প্যাকেজ সাধারণত ৩০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে হাসপাতাল ও ডাক্তারের মানভেদে খরচ কম-বেশি হয়।

প্রশ্ন ৩: পাথর হলে কি ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার (দুধ, ডিম) একদম বাদ দিতে হবে?

উত্তর: না, এটি ভুল ধারণা। খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালসিয়াম (যেমন দুধ, দই) আসলে পাথর রোধ করতে সাহায্য করে। তবে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। খাবারের সাথে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা নিরাপদ।

প্রশ্ন ৪: কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা কোথায় হয়?

উত্তর: সাধারণত কোমরের পেছনের দিকে, পাঁজরের নিচে ব্যথা শুরু হয়। এরপর এই ব্যথা তলপেট এবং কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষেও ব্যথা অনুভব হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: বেশি পানি খেলে কি কিডনি পাথর বের হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, ছোট আকারের পাথরের ক্ষেত্রে (৩-৪ মি.মি.) বেশি পানি পান করা বা ‘ওয়াটার থেরাপি’ খুব কার্যকর। পানির চাপে পাথর মূত্রনালি দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে। তবে পাথর বড় হলে শুধু পানি খেয়ে লাভ হয় না, চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

Author Image
Tanore Computer
আমরা আপনাকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সবসময় প্রস্তুত।

Leave a Comment

error: Content is protected !!